চন্দ্রালোকের ছায়া-২
![SadCryingAnimeGirl[1].jpg](/sites/default/files/users/anamika/SadCryingAnimeGirl%5B1%5D.jpg)
আমার মতে, একজন প্রেমিকের পাওয়া উচিত দীর্ঘজীবন। আমি যখন হিতোশিকে হারালাম, তখন আমি ২০। ওকে হারিয়ে এতটা কষ্ট পাব, কখনই বুঝতে পারিনি। আমার মনে হচ্ছিল, যেন ওর জীবন নয়, থেমে গেছে আমার জীবন।
যে রাতে হিতোশি মারা গেল, মনে হল এ মৃত্যু যেন আমার। আমি নিজেকে হারিয়ে ফেল্লাম। যেন আমার প্রাণ পাখিটা উড়ে গেল শূন্যে চিরতরে।
দিনগুলো কাটছিল, যেন আমি মরে বেঁচে আছি। সব কিছু ছিল বিষন্ন আর অর্থহীন।
মানুষের জীবনে এমন কিছু অভিজ্ঞতা থাকে, যা কখনই কাম্য নয়। আমার মনে হচ্ছিল, আমি সেই সব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। যেন আমার এ্যাবরশন হয়েছে, যেন আমি বেছে নিয়েছি পতিতাবৃত্তির কঠিন জীবন। যেন আমার কোন দূরারোগ্য ব্যাধি হয়েছে।
আমাদের দুজনেরই তখন অল্প বয়স। অথচ কে জানতো, এটাই হবে আমাদের শেষ ভালোবাসা?
আমরা দুজনে মিলে কত যে কঠিন সময় পার করেছি, জেনেছিলাম- কি করে ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করতে হয়। দুজন দুজনকে চিনতে শিখেছিলাম। শিখেছিলাম, কি ভাবে নিজেদের সম্পর্কটাকে যাচাই-বাছাই করতে হয়।
এই চার বছর ধরে একটু একটু বুঝতে শিখেছিলাম, জীবনের অনেক খুঁটিনাটি।
এখন সব শেষ। এখন আমি চিৎকার করে বলতে পারি, পৃথিবীতে ঈশ্বর বলে কিছু নেই।
আসলে আমি হিতোশিকে আমার জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবেসেছি।
হিতোশি মারা যাবার দুমাস হল। প্রায় প্রতিদিনই আমি নিজেকে আবিষ্কার করি নদীর ধারে রেলিং এর উপর। এখানেই আমি মুয়ে থাকি, কখনও চা খাই।
আসলে আমি জগিং করতে শুরু করেছি। প্রতিটা রাত নির্ঘূম কাটানোর পর ঠিক ভোর হবার সাথে সাথেই বেরিয়ে পড়ি।
এক দৌঁড়ে ব্রীজটার কাছে আসি, কিছুক্ষণ থাকি এখানে আবার দৌঁড়ে ফিরে যাই।
রাতে ঘুমানো টা আমার কাছে বিভীষিকার মত। আতন্কে হঠাৎ হঠাৎ জেগে যাওয়ার মত কষ্টের আর কিছু নেই। আমি গভীর বিষন্নতায় ডুবে যাই, যখনই আমার মনে হয়---'ও আর নেই। ও চলে গেছে।'
চোখটা একটু লেগে এলেই, আমি হিতোশিকে দেখতে থাকি। ও থাকে আমার সমস্ত স্বপ্ন জুড়ে। স্বপ্নে হিতোশি আসুক বা না আসুক, ঘুম ভেঙ্গেই দেখবো ও নেই এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারিনা। কিন্তু নির্মম বাস্তব হল, আমরা দুজন আর কখনই একসঙ্গে হবনা।
আমি সে জন্য প্রাণপন চেষ্টা করি, যাতে ঘুমিয়ে না পড়ি। জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করি কিন্তু তাতে লাভ হয়না। সারারাত ছটফট করতে করতে মনে হয়, আমার ভেতর থেকে সব বুঝি বেরিয়ে আসবে।
আমার সারা শরীর ভিজে ওঠে শীতল ঘামে।
আর তখনই আমি পর্দার ফাঁক গলিয়ে দেখতে পাই, রাতের গাঢ় অন্ধকার ক্রমশই ফিকে হয়ে আসছে। আকাশের গায়ে নীল-সাদা রং।
এসময় এমন শীতের রাতে, নিঃসঙ্গ নিজেকে বড্ড পরিত্যাক্ত মনে হয়।
এরকম নিস্তব্ধ ঠান্ডা রাতে নিঃসঙ্গতা আর দুঃখ আমাকে ঘিরে ধরে। আমার শুধু মনে হয়-'আমি যদি আবার ঘুমিয়ে আমার স্বপ্নের মধ্যে ফিরে যেতে পারতাম......।'
সারারাত নির্ঘুম চোখে অসংখ্য অত্যাচার সহ্য করতে করতে এক সময় সত্যি জেগে উঠি।
দিনের পর দিন এই নিঃসঙ্গতা, এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমি অপেক্ষা করি ভোর হবার। অন্ধকারটা একটু ফিকে হতেই আমি বেরিয়ে পড়ি।
রোজ দৌঁড়াবো বলে, আমি বেশ দাম দিয়ে সোয়েটস্যুট কিনলাম। সঙ্গে রানিং শু'জ। আর একটা এ্যালুমেনিয়াম বোতল। চা রাখবার জন্য।
আমার মনে হয়, সব শুরুই আয়োজনটা একটু বেশীই থাকে।
যাই হোক আমার শুরু করার আয়োজনটা নেহাত মন্দ লাগছিল না। এটা অনেকটা মন্দের ভালো।
আমি জগিং শুরু করেছি, স্প্রিং ভ্যাকেশনের আগে আগে। আমি রোজ ব্রীজ পর্যন্ত দৌড়ে যাই, তারপর ওখানটায় একটা ছোট্ট চক্কর দিয়ে ফিরে বাড়ি ফিরে আসি।
রোজ বাড়ি ফিরে ঘামে ভেজা তয়লাটা যত্ন করে ধুই। তারপর অন্যান্য কাপড় গুলো রোদে শুকোতে দিয়ে রান্না ঘরে যাই মাকে সাহায্য করতে। এরপর একটু গড়িয়ে নেই বিছানায়।
সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে এক সাথে হই। কোন কোন দিন এক সঙ্গে ভিডিও দেখি । একা থাকলে, এটা ওটা করি নিজেকে ব্যাস্ত রাখতে। কিন্তু সবই বৃথা।
আমার সমস্ত ইন্দ্রিও জুড়ে শুধু একটাই চাওয়া---'যদি একবার হিতোশি কে দেখতে পারতাম।'
কি কষ্ট করেই না আমার শরীর মনটাকে বয়ে নিয়ে বেড়াই, আর রোজ ভাবি, নিশ্চই কোন না কোন সময় এই হতাশা থেকে আমি মুক্তি পাবই।
যদিও জানি এর কোন গ্যারান্টি নেই।
তবুও আশায় বুক বেঁধে থাকি। পার করি এক একটা বিষন্ন দিন।
আমার পোষা পাখিটা যখন মারা গেল, তখনও আমার ভীষন মন খারাপ হয়েছিল। আমার প্রিয় কুকুরটা মরে গেলেও আমি ভেঙ্গে পড়েছিলাম।
কিন্তু এসব এই সময়টার কাছে কিছুই নয়। এ এক অন্য রকম সময়।
লক্ষ্য বিহীন এক একটা দিন পার করছি, যেন আমি কোন মানুষ নই।
তারপরও রোজ প্রার্থনার মত করে, একটা শব্দই বার বার বলি- " সব ঠিক হয়ে যাবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। একদিন সত্যি ই আমে এসব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।"





ভালো লাগলো প্রথমটার মতোই।
প্রথমটার লিঙ্ক এখানে জুড়ে দিতে পারেন।
আরেকটু নিয়মিত দেওয়া যায় না?
ধন্যবাদ নজরুল ভাই, আসলে এই ব্লগে আমি একদম আনাড়ি। আমি লিন্ক যোগ করতে পারি না।
পোস্ট যেখানে লেখেন, সেখানে দেখুন উপরে কয়েকটা অপশন আছে।
একটা ছবি, তার পাশে একটা গোল্লা, তার পাশে B I U এভাবে।
লিংক দিতে আপনি যেটা করবেন, যে জিনিসটার লিংক দিতে চাইছেন, সেখানে গিয়ে তার url/ লিংক টা কপি করবেন, তারপর বর্তমান পোস্টে ফিরে এসে ঐ গোল্লায় ক্লিক করবেন। তাতে দেখবেন লিংক পেস্ট করার অপশন আসবে। সেখানে পেস্ট করুন। হয়ে যাবে। আর, যদি ঐ লিংকের সাথে কিছু কথা যুক্ত করতে চান, সেক্ষেত্রেও ব্যবস্থা আছে। আপনি ঐ গোল্লায় ক্লিক করলেই পেয়ে যাবেন....
চেষ্টা করে দেখুন।
ধন্যবাদ বয়ান। আমি চেষটা করবো।
অসাধারণ
ধন্যবাদ তানবীরা। আমি বিনীত।
দারুন ।
ধন্যবাদ সাইদ ভাই। আমি আসলে তেমন লিখতে পারিনা। এই লেখাটা নিয়ে আমি বেশ
লজ্জায় আছি। মানে আমার কাজের মান নিয়ে।
বাহ ! পুলকিত আর মোহিত আমি...
ধন্যবাদ মেসবাহ ভাই। আমি বিনীত।
দারুণ লাগছে।
ধন্যবাদ জয়িতা।
আজকে ব্লগে এতসব চমৎকার পোস্ট যে কি আর বলবো। পড়তে পড়তে অস্থির হয়ে উঠছি। এই লেখাটা যে চূড়ান্ত ভালো লেগেছে সেটা আর বলছি না। এরপরে আরো ভালো লেখা দিন। আরো অস্থির হই।
ধন্যবাদ মীর। সত্যি এরকম করে বল্লে, আমি আর বলার ভাষা খুঁজে পাইনা।
এই লেখাটা দারুন লেগেছে... আমি ২টা একসাথে পড়লাম, ভালো লাগাটা বেশিই পেলাম আমি...
রুমান্তিক গল্প দেখি !!! নো কুমেন্টস
আড্ডার গাড্ডায় পড়ে পয়লা পর্ব মিস করে গেছিলাম। এটা পেয়ে শেষ দিয়েই শুরু করলাম। দারুণ অনুবাদ হয়েছে। আরও চাই এমন।
মন্তব্য করুন